Cozy Leather Blog

From Raw Hides to Leather Products: The Tanning Process

কাঁচা চামড়া সরাসরি ব্যবহার করলে কয়েক দিনের মধ্যেই পচে নষ্ট হয়ে যায়। তাই একে রাসায়নিক ও যান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে প্রধানত ৪টি ধাপে ভাগ করা যায়:

১. প্রাক-ট্যানিং প্রস্তুতি (Pre-Tanning / Beamhouse Operations)

পশু জবাই করার পর চামড়া দ্রুত নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ (Curing) করা হয়। এরপর কারখানা বা ট্যানারিতে আনার পর শুরু হয় প্রাক-ট্যানিং ধাপ:

  • সোয়াকিং (Soaking): লবণ ও ময়লা দূর করতে কাঁচা চামড়াকে প্রচুর পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। এতে চামড়া তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা ফিরে পায়।
  • লাইমিং ও আনহেয়ারিং (Liming & Unhairing): চুন (Lime) এবং সোডিয়াম সালফাইড মেশানো পানিতে চামড়া ডোবানো হয়। এর ফলে চামড়ার পশম ও অপ্রয়োজনীয় প্রোটিন আলগা হয়ে উঠে যায়।
  • ফ্লেশিং (Fleshing): মেশিনের সাহায্যে চামড়ার ভেতরের অংশের বাড়তি চর্বি ও মাংসের টুকরো পরিষ্কার করা হয়।
  • ডিলাইমিং ও বেটিং (Deliming & Bating): চামড়া থেকে ক্ষারীয় ভাব কমানো হয় এবং এনজাইম ব্যবহারের মাধ্যমে চামড়াকে নরম ও মসৃণ করা হয়।
  • পিকলিং (Pickling): অ্যাসিড ও লবণ যোগ করে চামড়ার pH লেভেল ৩ এর নিচে নামিয়ে আনা হয়, যাতে পরবর্তী ট্যানিং কেমিক্যাল সহজে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।

২. মূল ট্যানিং প্রক্রিয়া (Main Tanning Process)

এই ধাপে পচনশীল চামড়াকে স্থায়ী লেদারে রূপান্তর করা হয়। ট্যানিং প্রধানত দুটি পদ্ধতিতে হয়:

  1. ক্রোম ট্যানিং (Chrome Tanning): ক্রোমিয়াম সালফেটের সাহায্যে দ্রুত (মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে) ট্যানিং করা হয়। এই প্রক্রিয়ার পর চামড়া দেখতে হালকা নীল রঙের হয়, যাকে “ওয়েট ব্লু” (Wet Blue) বলা হয়। বিশ্বে ৮০% চামড়া এই পদ্ধতিতে প্রস্তুত হয়।
  2. ভেজিটেবল ট্যানিং (Vegetable Tanning): গাছের ছাল, কাঠ ও ফল থেকে সংগৃহীত প্রাকৃতিক কষ (Tannins) ব্যবহার করে এই ট্যানিং করা হয়। এতে সময় বেশি লাগে, তবে লেদার হয় অত্যন্ত শক্ত ও পরিবেশবান্ধব।

৩. পোস্ট-ট্যানিং ও ফিনিশিং (Post-Tanning & Finishing)

ট্যানিং সম্পন্ন হওয়ার পর চামড়াকে নির্দিষ্ট প্রোডাক্টের উপযোগী রূপ দিতে এই ধাপগুলো অনুসরণ করা হয়:

  • স্প্লিটিং ও শেভিং (Splitting & Shaving): মেশিনের সাহায্যে চামড়াকে কেটে নির্দিষ্ট পুরুত্ব বা থিকনেস (Thickness) দেওয়া হয়।
  • ডাইং ও ফ্যাটলিকারিং (Dyeing & Fatliquoring): চামড়ায় কাঙ্ক্ষিত রং প্রয়োগ করা হয় এবং তেল বা চর্বি (Fatliquor) মেশানো হয় যাতে শুকালে চামড়া শক্ত না হয়ে নরম ও নমনীয় থাকে।
  • বাফিং ও ফিনিশিং (Buffing & Finishing): চামড়ার উপরিভাগ মসৃণ করতে বাফিং করা হয় এবং প্রটেক্টিভ কোটিং দেওয়া হয় যেন পানি ও আঁচড় থেকে লেদার সুরক্ষিত থাকে। একে তখন “ক্রাস্ট বা ফিনিশড লেদার” বলা হয়।
  • ড্রাইং (Drying): চামড়াকে বাতাসে ঝুলিয়ে বা ভ্যাকুয়াম ড্রায়ারের মাধ্যমে শুকানো হয়।

৪. প্রোডাক্ট প্রস্তুতকরণ (Product Manufacturing)

ফিনিশড লেদার ট্যানারি থেকে কাটিং ও ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে আসার পর চূড়ান্ত পণ্য তৈরি হয়:

  • প্যাটার্ন ও কাটিং (Pattern Design & Cutting): যে প্রোডাক্ট (যেমন: ওয়ালেট, ব্যাগ বা জুতা) তৈরি হবে তার লেআউট অনুযায়ী লেদার নিখুঁতভাবে কাটা হয়।
  • অ্যাসেম্বলি ও সেলাই (Assembling & Stitching): কাটিং অংশগুলো গ্লু দিয়ে সাময়িক জোড়া লাগিয়ে দক্ষ কারিগর বা হেভি-ডিউটি সেলাই মেশিনের মাধ্যমে টেকসই সেলাই দেওয়া হয়।
  • এজ ফিনিশিং ও কোয়ালিটি চেক (Edge Finishing & QC): প্রান্তগুলো মসৃণ করে পলিশ করা হয়, বোতাম বা জিপার যুক্ত করা হয় এবং গুণগত মান পরীক্ষা করে বাজারে পাঠানোর জন্য প্যাকিং করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *